মন্ত্রিসভার অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজা সিটিতে প্রবেশ করে এলাকা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেবে। একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে অবস্থানরত বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মানবিক সহায়তা চালু রাখা হবে। নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনাকে ‘গাজাকে নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত করার রোডম্যাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য পাঁচটি মৌলিক নীতি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করা, সব জিম্মিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা, গাজা উপত্যকার সামরিকীকরণ বন্ধ করা, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং এমন একটি নতুন বেসামরিক প্রশাসন গঠন করা, যা না হবে হামাসের নিয়ন্ত্রণে, না হবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে।
ইসরায়েলের সেনাপ্রধান আইয়াল জামির এই পরিকল্পনা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এই অভিযান জিম্মিদের জীবনকে আরও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং সামরিক বাহিনীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে। জামিরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এমন অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
দেশের ভেতরে, বিশেষ করে জিম্মিদের পরিবারগুলো এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে জিম্মি মুক্তির সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে যাবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মহলে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করেছে, এমন অভিযান ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের পাশাপাশি গাজায় নতুন করে গণবিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করতে পারে।
ইসরায়েলি বাহিনী গত কয়েক মাস ধরে গাজায় হামাসবিরোধী সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। গাজা সিটি হামাসের কৌশলগত ঘাঁটি হওয়ায় ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় প্রবেশের পরিকল্পনা করে আসছিল। তবে এবার প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিলল।
নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, “আমরা গাজা রাখতে চাই না, তবে এটিকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণে নেব, যাতে আর কখনো এখান থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা চালানো না যায়।” এদিকে, আইডিএফ জানিয়েছে, অনুমোদন পাওয়ার পর শিগগিরই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ শুরু করা হবে। তবে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
গাজা সিটির দখল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের গতিপথে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। একইসঙ্গে এর মানবিক পরিণতি নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে।