উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. সিরাজুল চৌধুরী বলেন, “জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্বপ্ন থেকেই এই প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ছাত্র সংসদের প্রয়োজনীয়তা তিনিই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে বুঝতেন। বিশ্ববিদ্যালয় শুধুই কাঠামো নয়; এটি একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। ছাত্র সংসদ ছাড়া কোনো বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণতা পায় না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ—বাংলাদেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ছাত্রসমাজের ভূমিকা অনন্য ও অনুকরণীয়।
পুঁজিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমান উন্নয়ন ধারণা মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। এর ফলে পৃথিবীজুড়ে সংকট দেখা দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন—এই ব্যক্তিমালিকানাকেন্দ্রিক কাঠামো চলবে, নাকি সমাজকে সামাজিক মালিকানার পথে এগোতে হবে?”
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী ছাত্র সংসদের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, “ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সরকার। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের সমস্যার সমাধান করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সেতুবন্ধন তৈরি করাই এর প্রধান দায়িত্ব।”
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, একদিন গণ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে জায়গা করে নেবে।
সম্প্রতি আলোচিত র্যাগিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। তদন্ত কমিটি কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
গকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) বলেন, “সাত বছর ধরে বন্ধ থাকা ছাত্র সংসদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আশা করি ভবিষ্যতে আর কখনও এমন স্থবিরতা তৈরি হবে না।” তিনি জানান, সব প্রার্থীর ইশতেহার সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে তারা একসঙ্গে কাজ করবেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, “ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর লক্ষ্য ছিল নেতৃত্ব সৃষ্টি। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় আরও উন্নত অবস্থানে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ওয়ালিউল ইসলাম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী, গকসুর নবনির্বাচিত নেতারা এবং জাকসুর সাবেক উপাচার্য মো. আমিরুল ইসলামসহ জাকসুর নেতৃবৃন্দ।