গত জুলাইয়ে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে এনএসআইয়ের ফিল্ড অফিসার আশরাফ হোসেন পালিয়ে যান। বাংলাদেশে যাওয়ার কথা বলে পরিবারসহ মিশন ছাড়লেও তিনি দেশে ফেরেননি। একাধিক সূত্রের দাবি, পরে গোপনে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান আশরাফ। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী এখনো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বে রিপোর্ট করেননি।
আশরাফের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য নয়াদিল্লি মিশনের কনস্যুলার শাখা থেকে নোট ভারবাল দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। ওই নোট ভারবালের ভিত্তিতেই তাকে ভিসা দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নয়াদিল্লি মিশনের উপপরিচালক নাসির, কলকাতা উপহাইকমিশনে কর্মরত মাহমুদুল হাসান পলাশ এবং দুবাই মিশনের যুগ্ম পরিচালক বদরুলও পালিয়ে যান। নাসির নয়াদিল্লি থেকে প্রথমে ঢাকায় আসেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। তার ভিসার ক্ষেত্রেও নয়াদিল্লি মিশনের কনস্যুলার শাখা থেকে নোট ভারবাল দেওয়া হয়েছিল।
কলকাতা উপহাইকমিশনে কর্মরত মাহমুদুল হাসান পলাশ ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর লন্ডনে চলে যান। সেখানে তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয় রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শেখ হাসিনার লন্ডনভিত্তিক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনেও তাকে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। পলাশ বুয়েটে পড়ার সময় ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুবাই মিশন থেকে পালিয়ে যান যুগ্ম পরিচালক বদরুল। তিনিও এখন পর্যন্ত পলাতক রয়েছেন। চার কর্মকর্তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানা গেছে।
বিদেশি মিশনের কনস্যুলার শাখাসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আগের সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বহাল থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের একটি মিশনে কর্মরত এক বাংলাদেশি কর্মকর্তার দাবি, এসব কর্মকর্তা আওয়ামী লীগকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। এতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে এনএসআইয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সূত্র: এশিয়া পোস্ট