জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, এসব চুক্তি সম্পূর্ণ অস্বচ্ছভাবে এবং স্টেকহোল্ডারদের মতামত ছাড়াই তড়িঘড়ি করা হয়েছে। গুলিস্তান থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তাঁরা বলেন, জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করে কৌশলগত স্থাপনাগুলো বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিক সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে—২২ নভেম্বর চট্টগ্রাম শ্রমিক কনভেনশন থেকে হরতাল ও সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা হতে পারে।
সম্প্রতি লালদিয়া চর টার্মিনাল ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস এবং পানগাঁও নৌ টার্মিনাল সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএ-কে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পিটিসি সৌদি আরবের আরএসজিটি পরিচালনা করছে এবং এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে যাওয়ার আলোচনাও চলছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর অভিযোগ—এ ধরনের চুক্তিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি সুবিধা পাচ্ছে, আর বন্দর কর্তৃপক্ষ তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে কম রাজস্ব অর্জন করবে।
বন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, বিদেশি অপারেটরদের নিয়ন্ত্রণ বাড়লে মাশুল বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে, ফলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং রপ্তানিমুখী শিল্প আরও প্রতিযোগিতাহীনতায় পড়তে পারে। এমন অবস্থায় বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বিদেশি বিনিয়োগ জরুরি। যদিও অনেক ব্যবহারকারী মনে করছেন, গোপন চুক্তির কারণে জনগণের মাঝে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি এ ইজারা ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
এনসিটি ও সিসিটি বিদেশিদের হাতে না দেওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামে বন্দর রক্ষা পরিষদ মশাল মিছিল ও অবরোধ করে ৪০ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। দাবি না মানলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে শ্রমিক নেতারা।