গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন প্রিজন ভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমার এবং ভ্যানচালক নায়েক কামাল হোসেন। এ ঘটনায় তাদের আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। একই ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব ও শাকিল হোসেনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পাঁচজনের বিরুদ্ধেই বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
পিচ্চি রাজা কোথা থেকে পালিয়েছেন, তা নিয়ে শুরু থেকেই ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা গাজীপুরের বাইমাইল বা নাওজোড় হাইওয়ে থানার সামনের কথা বললেও তদন্তে সেটি সঠিক নয় বলে উঠে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঢাকার তাঁতীবাজার থেকেই তিনি প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়েছেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে নেওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে তাদের কারাগারে ফেরার পথে রাত ৮টার দিকে প্রিজন ভ্যানটি গাজীপুরের নাওজোড় বা বাইমাইল এলাকায় পৌঁছায়। ওই সময় দায়িত্বে থাকা এক এসআই পিচ্চি রাজাকে শৌচকর্মের জন্য ভ্যান থেকে নামান। পরে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। বাকি ২৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর পিচ্চি রাজাকে ধরতে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছিল কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ কর্তৃপক্ষ। জেলার জাহাঙ্গীর আলমও জানিয়েছিলেন, তাকে গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান চলছে। কিন্তু ঘটনার প্রায় সাত দিন পরও তার সন্ধান মেলেনি।
পালানোর ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি সংশ্লিষ্ট পাঁচ পুলিশ সদস্যকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে তাদের বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বিশেষ করে পিচ্চি রাজা কোন স্থান থেকে পালিয়েছেন, সে বিষয়ে তাদের দেওয়া তথ্যে মিল পাওয়া যায়নি। তদন্তের একপর্যায়ে তাঁতীবাজার থেকেই তার পালানোর তথ্য নিশ্চিত হয়।
রোববার (৪ অক্টোবর) এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম। তিনি বলেন, পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা এখনো সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না এবং পালানোর স্থান নিয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।
মহিউল ইসলাম জানান, পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শেষ হলে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এরপর প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মাদক ও অবৈধ অস্ত্রসংক্রান্ত প্রায় ২৫টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।