ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপদে দেশে ফেরার নিশ্চয়তা পেলে তিনি দেশে ফিরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন এবং আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সব ধরনের পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত আছেন।
বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন সাকিব। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে তিনি বিশ্বাস করেন। বিশেষ করে হত্যা মামলার প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, অভিযোগের সময় তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলছিলেন।
সাকিব জানান, বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলায় নিজের নির্দোষিতা আদালতেই প্রমাণ করতে চান বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশে ফেরার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সাবেক এই অলরাউন্ডার বলেন, যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে ফিরতে চান। তা সম্ভব না হলে বছরের শেষ দিকে দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিষয়ে দলের নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই অনুসরণ করবেন।
দিল্লিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন সাকিব। তাঁর ভাষ্য, সেখানে তিনি কেবল দেশের শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন এবং সে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই।
এ ছাড়া তিনি জানান, অতীতে নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে দেশে ফেরার উদ্যোগ নিয়েও শেষ মুহূর্তে তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ব্যাংক হিসাব জব্দ রয়েছে এবং প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশে অবস্থানরত বাবা-মায়ের সঙ্গেও দেখা করতে পারেননি বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন তিনি।
ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়েও নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরে সাকিব বলেন, এখনও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন এবং খেলাটি উপভোগ করছেন। তবে বয়সের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অবসরের সিদ্ধান্ত খুব বেশি দীর্ঘায়িত করতে চান না বলেও জানান তিনি।