পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে। শুধু গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কঠোর তদারকি ছাড়া এই অনৈতিক চর্চা বন্ধ করা সম্ভব নয়।
রায়ে নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে পরিচালিত ভ্রূণসংক্রান্ত পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ছয় মাসের মধ্যে ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদের কথাও বলেছেন আদালত।
হাইকোর্ট আরও উল্লেখ করেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য বাড়াতে পারে এবং সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি সৃষ্টি করে। এটি সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম কঠোর আইনি নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে বলে আদালত তুলে ধরেন।
এ নির্দেশনাকে “continuous mandamus” হিসেবে ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। অর্থাৎ ভবিষ্যতেও আদালত নিজেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন তদারকি করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। রিটের পক্ষে সহায়তা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।