ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিক সোহেল লিখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। বিনা অপরাধে সাড়ে ১০ ঘণ্টা ডিবি হেফাজতে থাকার পর তারা আমাকে সম্মানসহ বাসায় ফিরিয়ে দিয়েছে। গত রাত ১২টার দিকে ‘ডিবি প্রধান কথা বলবেন’—এই অজুহাতে ৫-৬ জন সদস্য জোর করে আমাকে বাসা থেকে তুলে নেয়। সেখানে নিয়ে গিয়ে আসামির খাতায় নাম লেখা হয়, জুতা-বেল্ট খুলে গারদে সাধারণ আসামিদের সঙ্গে রাখা হয়। কিন্তু কেন আমাকে আটক করা হলো—তা আমি জানতাম না, ডিবির কর্মকর্তারাও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।”
তিনি আরও জানান, দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার পর তিনি বুঝতে পারেন যে সরকারের এক উপদেষ্টার নির্দেশে কয়েকজন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষার জন্যই তাকে তুলে আনা হয়েছিল। সোহেলের সঙ্গে সংগঠনের আরেক কর্মকর্তা আবু সাঈদ পিয়াসকেও আটক করা হয়, যিনি এখনো ডিবি কার্যালয়ে আছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মুক্তির পর সোহেল দাবি করেন, বুধবার ডিআরইউতে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (NEIR) ইস্যুতে মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন এমবিসিবির নির্ধারিত প্রেস কনফারেন্স বন্ধ করাই ছিল ডিবির প্রধান লক্ষ্য। তিনি সেখানে মিডিয়া পরামর্শক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তার ভাষায়, “প্রেস কনফারেন্স বন্ধ করতেই আমাকে আটক করা হয়, কিন্তু উল্টো উদ্দেশ্যই দেশের মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে গেল।”
সোহেল মনে করেন, দেশের মুক্ত বাণিজ্য নীতিমালা এবং প্রতিযোগিতা কমিশনের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৯ জন ব্যবসায়ীকে সুবিধা দিতে NEIR প্রকল্পকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। “এতে সারাদেশের ২৫ হাজার মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একটি বড় চেইন ভেঙে পড়বে, সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীরাও বিপাকে পড়বেন,” মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, ওই ৯ জনের একজন আবার সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার স্কুল-বন্ধু।
সরকারের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেন, “একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বললেই কি সরকারের ভয় পাওয়া উচিত? শুধুমাত্র একটি প্রেস কনফারেন্স বন্ধ করতেই কি আমাকে গভীর রাতে জোর করে তুলে নিতে হলো? যারা মুখে ‘বাকস্বাধীনতা’র কথা বলেন, তারাই আমাকে বাকরুদ্ধ করার উদ্যোগ নিলেন—এটাই কি আজকের বাস্তবতা?”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর নতুন বাড্ডার বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে সাংবাদিক সোহেলকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি।