প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক ও পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। হামলায় গুরুতর আহত চার সাংবাদিক হলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সহ-দফতর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিকে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারধরের উদ্দেশ্যে জিয়াউর রহমান হলের সামনে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অস্ত্রগুলো তারা সরিয়ে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
এরপর অস্ত্র হাতে তাদের অবস্থানের ভিডিও করতে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা এগিয়ে গেলে তাদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে জাহিদুলের মাথা ফেটে যায়। আহত সাংবাদিকদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসা অন্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ। আমাদের দ্বারা তাদের হামলা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’