এই কমিশনের সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ। সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফররাজ হোসেন, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান বিচারপতি এমদাদুল হক, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
প্রথমে কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সে হিসেবে ১৫ আগস্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সরকার তিন দফায় মেয়াদ বাড়ায়—শেষ দফায় আরও ১৫ দিন যুক্ত করে আজ পর্যন্ত করা হয়।
কমিশনটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, সংবিধান ও দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত সংস্কারের জন্য বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরি করেছে। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন জাতীয় শক্তির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্য গঠনের উদ্যোগ নেয় কমিশন।
এই প্রক্রিয়ার ফলাফল হিসেবে কমিশনের নেতৃত্বে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’। ইতোমধ্যে এই সনদে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে, যদিও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সই করেনি।
কমিশন তাদের প্রস্তুত করা সংস্কার-সুপারিশ ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের হাতে হস্তান্তর করেছে। এর মাধ্যমে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটছে—পেছনে রেখে যাচ্ছে একটি সম্ভাবনাময় সংস্কার নকশা, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি হতে পারে।