ভাইরাল অডিওতে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক এক ব্যক্তিকে ‘বাবা’ সম্বোধন করে পাসপোর্ট জমা দেওয়া, ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসার ব্যবস্থা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং বিএমইটি-সংক্রান্ত কাজ নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। এসব কাজের জন্য আপাতত পাঁচ লাখ টাকা প্রয়োজন এবং বাকি টাকা এক-দুই মাস পর দেওয়া যাবে বলেও কথোপকথনে উল্লেখ করা হয়। কয়েকবার ওই ব্যক্তিকে ‘বাবা’ সম্বোধন করে টাকা চাওয়ার কথাও শোনা যায়।
তবে কথোপকথনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে অডিওটি পূর্ণাঙ্গ কি না, এর সত্যতা কতটা এবং এতে কোনো সম্পাদনা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর সোমবার বিকেলে দলীয় প্যাডে যুব অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক নাঈম হোসেন শান্ত জানান, ফারুক হোসেনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক হোসেন বলেন, লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে কথা বলায় একটি চক্র তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তার দাবি, ভাইরাল অডিওটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
ফারুক হোসেন বলেন, তার এলাকার সাকিব নামে একজন তাকে পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার জন্য বলেছিলেন। তিনি সাকিবকে বলেছিলেন, পাঁচ হাজার টাকা খরচ হবে। তার ধারণা, ওই পাঁচ হাজার টাকার কথাকেই পাঁচ লাখ টাকা বানানো হয়েছে। তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে কথা বলায় একটি চক্র তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
সাকিব বলেন, তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল, পাঁচ লাখ টাকা চাওয়ার কোনো বিষয় নেই। তিনি আরও বলেন, ‘এই রেকর্ডের অপর প্রান্তে তো কারও ভয়েস নেই।’
এ বিষয়ে যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম গত রাত ১১টার দিকে গণমাধ্যমকে বলেন, তারা অডিওটি শুনেছেন। যাচাই করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর উচ্চপর্যায়ে কথা বলে ফারুক হোসেনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমার নাম বলে ধান্দাবাজি করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই।’ অভিযুক্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে (এসপি) বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করছেন ব্যবহারকারীরা। কেউ কেউ ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।