আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে। এ ঘটনায় তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার পতিত হয়, জাতীয় সংসদ ভেঙে যায় এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। গণতান্ত্রিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করা হয়, যা তাদের প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করে।
সকল রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনার পর ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ প্রণয়ন করা হয় এবং রাজনৈতিক দলসমূহ স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে। সংবিধান সংস্কার কার্যকর করতে জনগণের অনুমোদন প্রয়োজন, এজন্য গণভোট আয়োজন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং উক্ত পরিষদ কর্তৃক সংস্কারের বাস্তবায়ন নির্ধারণ করা হয়েছে।
গণভোটে ভোটারদেরকে প্রশ্ন করা হবে: “আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সনদে উল্লেখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করেন?” প্রধান প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনকালীন তত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশনের গঠন, জাতীয় সংসদকে দুই কক্ষ বিশিষ্ট করা, নারীর প্রতিনিধি সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলসমূহের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্যকর করা।
গণভোটে হ্যাঁ ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদের সদস্যরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ গঠন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং তার কার্যক্রম শেষ হবে। পরিষদ নিজস্বভাবে সভাপতি ও উপ-সভাপ্রধান নির্বাচন, অধিবেশন আহ্বান, ভোটদান ও কার্যপ্রণালী নির্ধারণ করবে।
সংবিধান সংস্কার কার্যকর হওয়ার পর অবিলম্বে সম্ভবপর সংস্কার কার্যকর করা হবে। জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে গঠিত হবে এবং তার মেয়াদ নির্বাচিত নিম্নকক্ষের মেয়াদের শেষ পর্যন্ত চলবে। উচ্চকক্ষ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়ন ও নির্দেশনা জারি করার ক্ষমতা সরকার রাখবে।
পরিশেষে, সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর পরিষদ কর্তৃক গৃহীত সব সংস্কার চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই আদেশের বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সকল নির্দেশনা জারি করা হবে।