ইসরায়েলে হামাসের হামলার তৃতীয় বার্ষিকীর আগে সোমবার এক বিবৃতিতে গুতেরেস এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এখন যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করার সময় এসেছে। গাজার মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা যেন নির্বিঘ্নে পৌঁছানো যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
গুতেরেস বলেন, পুরো অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য একটি কার্যকর রাজনৈতিক পথ তৈরি করা জরুরি। ৭ অক্টোবরের বার্ষিকী যেন শুধু আরেকটি শোকের দিন না হয়। এই দিনটি ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের শান্তি, নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার নতুন অঙ্গীকারের সূচনা হতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। ওই হামলাকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিক মিলিয়ে ১ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ নিহত হন। জিম্মি করা হয় ২৫১ জনকে।
অন্যদিকে গাজার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন গুতেরেস। তার ভাষায়, ব্যাপক প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও ধ্বংসের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাদের। এই দুর্ভোগও বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
গুতেরেসের বিবৃতিতে গাজায় ফিলিস্তিনি নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। মন্ত্রণালয়টি হামাস-নিয়ন্ত্রিত হলেও জাতিসংঘ সাধারণত তাদের দেওয়া পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির কথাও উল্লেখ করেন গুতেরেস। তিনি বলেন, ওই যুদ্ধবিরতিতে কিছুটা স্বস্তি এলেও গাজার নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা, পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য এখনো বিশ্বাসযোগ্য পথ তৈরি হয়নি।
ইসরায়েল এখনো গাজার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশটির অবস্থান, হামাসকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।