রূপগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে যে অস্বাভাবিক টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দিপু ভূইয়ার মনোনয়ন প্রক্রিয়া। স্থানীয় বিএনপি সূত্র ও একাধিক দলীয় নেতার ভাষ্য, এই মনোনয়নের পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন তারিফ খন্দকার নামের এক ব্যক্তি, যিনি এলাকায় ছাত্রলীগের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারিফ খন্দকার অতীতে নিষিদ্ধ ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা গাজীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গাজীর পিএস হীরা এবং তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি রিয়াজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেও দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ করেই অবস্থান বদল করেন তারিফ খন্দকার। গাউছিয়া কর্পোরেশনে চাকরির প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বর্তমানে রূপসী এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একসময় ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা ঘাট দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার দায়িত্ব এখন তারিফের হাতে চলে গেছে—এমন দাবিও উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে সরকারি সম্পত্তি দখলকে ঘিরে। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি পশু হাসপাতালের কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল করা হয়েছে। নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিপরীতে ওই জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে একটি বড় আকারের গোডাউন, যেখানে অবৈধ পণ্য সংরক্ষণ ও বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তথ্য পাওয়া গেছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে রূপসী নিউ মডেল কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেতা গাজীর পক্ষে পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তারিফ খন্দকার। আরও অভিযোগ রয়েছে, তার ভাই শরীফের মাধ্যমে নদীপথ ব্যবহার করে মাদক সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রণের সঙ্গেও তিনি জড়িত।
এমন একটি বিতর্কিত পটভূমির ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতায় দিপু ভূইয়ার মনোনয়ন সংগ্রহ রূপগঞ্জ বিএনপির ভেতরে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা বলেন,“ যারা আওয়ামী দুঃশাসনের সময়ে আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের হাত ধরেই যদি এখন বিএনপির রাজনীতি করতে হয়, তাহলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের জন্য ভবিষ্যৎ কোথায়?”
দলীয় অঙ্গনে আরও কঠোর প্রশ্নও উঠছে—রূপগঞ্জ বিএনপি কি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, নাকি সুযোগসন্ধানী ও বিতর্কিত শক্তির কাছে দলীয় নৈতিকতা বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে?
সবশেষে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এসব অভিযোগ হাইকমান্ডের নজরে আসবে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যথায়, বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছায়ায় রূপগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি আরও সংকটে পড়বে—এমন আশঙ্কাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।