সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক জুলকার নাইন সায়ের ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশিত এক পোস্টে লিখেন, মাহমুদুর রহমান তুরস্কে বিলাসবহুল আবাসনসহ ব্যাপক সম্পদ গড়ে তুলেছেন, যার আনুমানিক মূল্য হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অথচ ২০১৮ সালে দেশ ছাড়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় তিনি বিদেশে অবস্থান করলেও কোনো দৃশ্যমান চাকরি বা লাভজনক পেশার তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। এমন বাস্তবতায় একজন ব্যক্তি কীভাবে এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে সক্ষম হলেন তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, তুরস্কের নাগরিক হিসেবে ইস্যুকৃত পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি আন্তর্জাতিক ভ্রমণও করেছেন। এতে তার নাগরিকত্ব গ্রহণের পদ্ধতি ও সময়কাল নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২০ সালের দিকে নাগরিকত্ব পেতে যে বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়, সেই অর্থের উৎস নিয়ে সংশয় বাড়ছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি উঠেছে অর্থ পাচার সংক্রান্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত বিধান অনুযায়ী নাগরিকত্ব অর্জনের উদ্দেশ্যে বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাঠানোর কোনো বৈধ সুযোগ নেই। ফলে অভিযোগকারীদের ধারণা, এই অর্থ হুন্ডি বা অন্যান্য অবৈধ মাধ্যমে দেশ থেকে বাইরে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানী মহল প্রশ্ন তুলছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যিনি নিয়মিত কঠোর বক্তব্য দিয়ে আসছেন, তার ক্ষেত্রেই কি অবৈধ অর্থ লেনদেনের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন বা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে কিনা, সে তথ্যও নিশ্চিত নয়। তবে সচেতন মহলের মতে, আলোচিত এই অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি, যাতে প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে পরিষ্কারভাবে উঠে আসে।