বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৮২ ব্যাচের এই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ বি এম আব্দুস সাত্তার বর্তমানে অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একজন উপদেষ্টার এপিএসের অ্যাকাউন্টে ২০০ কোটি টাকা পাওয়া গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি বিভিন্ন উপদেষ্টাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নূরজাহান বেগমের মতো একজনের হাতে পরিচালিত হওয়া কতটুকু গ্রহণযোগ্য? পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় একজন অনভিজ্ঞ উপদেষ্টা দিয়ে চালানো ঠিক কি?
সাত্তার আগের থেকে দুর্নীতি আরও বেড়েছে বলে দাবি করে বলেন, “ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এক বছরে দুর্নীতি কমার বদলে বেড়েছে। এক সহকারী কমিশনার ভূমি একটি স্কুলের জমির নামজারিতে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেছেন, আর ঢাকার আশপাশের একজন ইউএনও একটি কারখানার লে-আউট পাশ করাতে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, তার রাজনৈতিক দল বিএনপির অফিসে গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এসে ন্যায়বিচার চাইছেন। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে ইন-সার্ভিস কর্মকর্তাদের অফিসে আসতে নিষেধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
সাত্তার বলেন, “আমি হতাশ। অনেক আমলার চরিত্র খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের রক্তের ওপর বসে থাকা অন্তত আটজন উপদেষ্টার দুর্নীতির প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তাদের বিরুদ্ধে তথ্যও রয়েছে, তবু কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
সেমিনারটি আয়োজন করেছিল প্রশাসন ক্যাডারদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, যার বিষয় ছিল ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও আগামী দিনের জনপ্রশাসন’। এতে দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ও মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান মুখ্য আলোচক ছিলেন। এছাড়াও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোখলেস উর রহমান, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দা লাসনা কবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাফিউল ইসলামসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
সেমিনারে শহীদদের আত্মীয়রাও অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। সরকারি কর্মকমিশনের সচিব সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন।