আল-কুরআনে ঘোষণা এসেছে, রমজান সেই মাস যাতে কুরআন নাজিল হয়েছে মানুষের পথপ্রদর্শক হিসেবে এবং সত্য-মিথ্যার সুস্পষ্ট পার্থক্যকারী রূপে। তাই যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, তার ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। তবে কেউ অসুস্থ বা সফরে থাকলে পরবর্তীতে তা পূরণ করতে পারবে (কুরআন, সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)।
রমজান এলে রহমতের দরজা উন্মুক্ত হয়। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ (সা.) জানিয়েছেন— রমজান শুরু হলে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয় (সহিহ বুখারি)।
আরেক বর্ণনায় এসেছে, এক সাহাবি নবী করিম (সা.)-এর কাছে জানতে চান, কোন আমল করলে জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে। উত্তরে তিনি বলেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা, ফরজ নামাজ আদায়, যাকাত প্রদান এবং রমজানের রোজা পালন। সাহাবি বলেন, তিনি এর বেশি কিছু যোগ করবেন না। তখন রাসুল (সা.) মন্তব্য করেন, কেউ যদি জান্নাতি মানুষ দেখতে চায়, তবে তার দিকে তাকাতে পারে (সহিহ বুখারি)।
তবে রোজা শুধু না খেয়ে থাকার নাম নয়। হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে দুটি শ্রেণির মানুষের রোজা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না।
প্রথমত: যারা মিথ্যা কথা বলা ও সেই অনুযায়ী কাজ করা পরিত্যাগ করে না।
দ্বিতীয়ত: যারা মূর্খতা ও অশালীন আচরণ থেকে বিরত থাকে না।
হাদিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মিথ্যা ও অন্যায় আচরণ ত্যাগ করতে পারে না, তার শুধু পানাহার বর্জন আল্লাহর কাছে মূল্যহীন (সহিহ বুখারি)।
অতএব, রোজার প্রকৃত শিক্ষা হলো আত্মসংযম, সত্যবাদিতা ও চরিত্রের পরিশুদ্ধি। বাহ্যিক উপবাসের পাশাপাশি অন্তরের পরিবর্তনই রমজানের আসল সাফল্য।