উভয় দেশের সামরিক বাহিনী সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তা মোয়ান থম মন্দির এলাকা সংলগ্ন সীমান্তে সরাসরি গুলি বিনিময়ে জড়িয়ে পড়ে। থাইল্যান্ডের বিমান বাহিনী তাদের F-16 যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে কাম্বোডিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এর প্রতিক্রিয়ায় কাম্বোডিয়া তাদের রকেট আর্টিলারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে পাল্টা জবাব দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯০৭ সালের ফরাসি মানচিত্রের ভিত্তিতে সীমান্ত নির্ধারণ ঘিরেই এ বিরোধের সূত্রপাত। যদিও ১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক আদালত প্রোহ্ ভিহেয়ার মন্দিরকে কাম্বোডিয়ার অংশ বলে স্বীকৃতি দেয়, তবে মন্দিরসংলগ্ন ৪.৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে এখনো দ্বন্দ্ব চলছে।
গত মে মাসে চং বক এলাকায় সংঘর্ষে এক কাম্বোডিয়ান সৈন্য নিহত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
কাম্বোডিয়া ইতোমধ্যেই সীমান্তে প্রায় ১০ হাজার সৈন্য ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করেছে। অন্যদিকে থাইল্যান্ডও সীমান্তবর্তী উবন রাতচাথানি, সিসাকেত ও বুরি রাম প্রদেশে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে।
থাইল্যান্ড জানিয়েছে, সংঘর্ষে এক শিশুসহ অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। কাম্বোডিয়ার পক্ষে হতাহতের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, তবে উভয় পক্ষেই আহতের সংখ্যা শতাধিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংঘর্ষের কারণে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো থেকে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে গেছে। থাইল্যান্ডের সীমান্ত শহর আরণ্যপ্রতেত-এ বাণিজ্যিক কার্যক্রম ৭৫ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
কাম্বোডিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। অপরদিকে থাইল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক আলোচনার উপর জোর দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আদালতের এখতিয়ার মানতে নারাজ। দুই দেশই পরস্পরের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে।
আন্তর্জাতিক মহল বিশেষ করে আসিয়ান ও চীন উভয় দেশকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তবে সঙ্কট নিরসনে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনেও অস্থিরতা চলছে, প্রধানমন্ত্রী পায়েথংতার্ন শিনাওয়াত্রা সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।
-তথ্যসূত্র:আল জাজিরা,রয়টার্স,এপি নিউজ,দ্য গার্ডিয়ান,দ্য পেচকো পার্সপেক্টিভ।