বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ইসলামাবাদে ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ বা বিজয় স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটাকে ‘রেড লাইন’ উল্লেখ করে শাহবাজ বলেন, ভারতকে সঠিক পথে ফিরতে হবে। তা না হলে পাকিস্তান প্রয়োজনীয় জবাব দেবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে ইসলামাবাদের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘মারকা-ই-হক’-এ পাকিস্তানের সাফল্যের কথা তুলে ধরে দেশটির জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করেন শাহবাজ।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরসহ সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাদের সাফল্যে দেশের মানুষের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং প্রতিপক্ষকে পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে।
‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের অভিনন্দন জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ নকশায় তৈরি এই স্থাপনাটি মাত্র আট মাসে নির্মাণ করা হয়েছে।
শাহবাজ বলেন, পাকিস্তান সংঘাত নয়, শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চায়। পাশাপাশি তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশ্বকে নতুন সংঘাত থেকে রক্ষার প্রসঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন শাহবাজ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের উদ্যোগ এবং ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন শাহবাজ। ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, তুরস্কও এই চুক্তির অংশ হয়েছে। তার মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে।
ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। কাশ্মীর ইস্যুতে ইসলামাবাদের অবস্থানও অপরিবর্তিত থাকবে বলে মন্তব্য করেন শাহবাজ।
আফগানিস্তানের ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে দেশটির সরকারের প্রতি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যের ওপরও জোর দেন শাহবাজ। তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ জাতিকে পরাজিত করা কঠিন। দেশের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।