২১ জুলাই ২০২৫ তারিখে ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৪ জন নিহত এবং দেড় শতাধিক আহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মানবিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই তিনি দলের কর্মসূচি স্থগিত করে, সিনিয়র নেতাদের নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকার নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যে বিএনপির নেতারা বিভিন্ন পরিবারে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং রক্তদানসহ সেবামূলক কার্যক্রম চালু করেছেন।
২১ জুলাই ২০২৫, সোমবার। ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো এলাকা। প্রাণ হারান ৩৪ জন, আহত হন দেড় শতাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে শিশু শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে তাৎক্ষণিক মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ: দুর্ঘটনার পরই দলের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন তারেক রহমান। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের র্যালি, মহিলা দলের আলোচনা অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। তিনি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকার নির্দেশ দেন। দলের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামকে নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী টিম ও অ্যাম্বুলেন্স বহর দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নিহতদের পরিবারের পাশে বিএনপি নেতারা: তারেক রহমানের নির্দেশে ২৪ জুলাই ২০২৫, বুধবার সকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিহত তিন শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং দিয়াবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে কবর জিয়ারত করেন। একই দিনে শহীদ জুনায়েদ ও শারিয়ারের কবরেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন ও সান্ত্বনা দেন তিনি।
২৫ জুলাই শুক্রবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে শহীদ এবি শামীমের পরিবারে যাবেন। একইদিনে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু শহীদ সারিয়া আকতারের বাড়িতে টঙ্গীর তুরাগে যাবেন। নিহত শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীর কবর জিয়ারতে নীলফামারী যাবেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসসহ মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ। আগামী ২৭ জুলাই রবিবার মাহেরীনের বাসায় সমবেদনা জানাতে যাবেন মির্জা আব্বাস।
চিকিৎসাসেবা ও রক্তদান কর্মসূচি: আহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিএনপির পক্ষ থেকে হাসপাতালে রক্তের সংকট নিরসনে ছাত্রদল, যুবদল, মেডিকেল ছাত্রদলের উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নেতারা আহতদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন।
দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়: দুর্ঘটনার পর দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীরকে সার্বিক সমন্বয়কের দায়িত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। আহতদের চিকিৎসা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম তিনি মনিটর করছেন।
স্থায়ী কমিটির জরুরি সভা: ২২ জুলাই রাতেই গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করে দোয়া করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।