এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে জনগণ আবারও গণঅভ্যুত্থানে নামবে। তিনি মনে করেন, এখনো দেশের অর্ধেক ভোটার সিদ্ধান্তহীন থাকায় আসন্ন নির্বাচন হতে পারে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে রাজনৈতিক নেতাদেরই জনগণের কাছে দায়ী হতে হবে।
রংপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে শনিবার (১৬ আগস্ট) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে জনগণ হতাশ হয়ে গণঅভ্যুত্থান ঘটাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জুলাই সনদ ভঙ্গ হলে আবারও গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য।”
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ কোনো দলকে ‘ব্ল্যাংক চেক’ দেয়নি। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী ৫০ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কাকে ভোট দেবে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গন রূপ নিতে পারে বড় ধরনের নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে। তার মতে, যেকোনো দলই ক্ষমতায় যেতে পারে, আবার হেরে যাওয়ারও সম্ভাবনা আছে।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে জনগণ রাজনৈতিক নেতাদের ‘মীরজাফর’ হিসেবে দেখবে। “শেখ হাসিনাকে যেসব সমালোচনা করা হয়েছে, তা আমাদের দিকেও ফিরিয়ে দেবে জনগণ”—বলেন তিনি।
সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্বাধীনতার পর এতো বড় পরিসরে কোনোদিন রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থ নিয়ে আলোচনায় বসেনি। ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে সংলাপে ইতিমধ্যে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
নির্বাচন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রস্তাব জানিয়ে ফুয়াদ বলেন, এবি পার্টি সুপারিশ করেছে—২০০ আসনে প্রচলিত ব্যবস্থা চালু থাকবে, আর বাকি ১০০ আসনে অনুপাতে ভোটের (PR system) ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। এতে সব দলের সংসদে উপস্থিতি থাকবে এবং ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা আসবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সময় যথেষ্ট আছে। তবে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের অভাব একটি বড় দুর্বলতা। তিনি দাবি করেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে রাজস্ব ও সচিবালয় সংস্কার থেমে গেছে। তবুও তিনি বিশ্বাস করেন, প্রধান উপদেষ্টা আন্তরিক হলে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন আব্দুল বাসেত মারজান, আবু বকর সিদ্দিক, আবু রাইয়ান রসি, এনামুল হক ও মাহবুবুর রহমান।