বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের বিষয়ে দেশের গণমাধ্যমকে সতর্ক করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের বক্তব্য প্রচার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে কয়েকটি গণমাধ্যম সম্প্রতি শেখ হাসিনার একটি ভাষণ প্রচার করেছে। সরকার এটিকে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
এর আগে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ প্রচার নিষিদ্ধ করেছিল। একইসঙ্গে, তিনি পূর্বে যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব মাধ্যম থেকে দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল বিটিআরসিকে।
সরকারের নতুন বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যে কোনো সংবাদমাধ্যম আদালতের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে তারা বাংলাদেশের আইনের অধীনে জবাবদিহির মুখোমুখি হবে।” পাশাপাশি সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষক ও সাংবাদিকদের একাংশ মনে করছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, একদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও অন্যদিকে বক্তব্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সেই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯-এর অধীনে ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে তাদের নেতাদের বক্তব্য বা কার্যক্রম প্রচার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও একই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর হাইকোর্ট সেই সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।
ফলে অনেকে মনে করছেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার নিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত একদিকে আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনার পুনরাবৃত্তি, অন্যদিকে দেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘিরে পুরোনো ধাঁচের নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিরই প্রতিফলন।