এনসিপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে দলটির অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা-৪টিসহ অন্তত ২০ আসন এনসিপি পেয়েছে আলোচনার তালিকায়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বিএনপি সূত্র বলছে, এনসিপি শুধু আসন নয়, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও তিনটি মন্ত্রিপদে অংশীদার হওয়ার নিশ্চয়তাও চাইছে। তবে বিএনপি এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
এনসিপির নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করেন, দলটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের “মধ্যপন্থী” ভাবমূর্তি ধরে রাখতে চায়। তাই জামায়াতের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় যাওয়ার সম্ভাবনা কম। যদিও জামায়াত দলটিকে কিছু আসনে ছাড় দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে, তবুও এনসিপি এখনো বিএনপির সঙ্গেই বেশি ঝুঁকছে। এ প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের মৌলিক দাবির সঙ্গে যারা কাছাকাছি, তাদের সঙ্গে ঐক্য বা সমঝোতার বিষয়টি আমরা বিবেচনায় রাখব।”
নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপি সম্প্রতি “কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি” গঠন করেছে। দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রধান এবং তাসনিম জারাকে সেক্রেটারি করা হয়েছে। কমিটিতে আরও ১০ জন সদস্য রয়েছেন, যারা প্রার্থী বাছাই, প্রচারণা, মাঠ সমন্বয় ও প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১, আখতার হোসেন রংপুর-৪, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-১৮ বা চাঁদপুর-৫, তাসনিম জারা ঢাকা-৯ এবং আরিফুল ইসলাম আদীব ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া সারজিস আলম (পঞ্চগড়-১), হাসনাত আবদুল্লাহ (কুমিল্লা-৪) ও আবদুল হান্নান মাসউদ (নোয়াখালী-৬) আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সমঝোতার পাশাপাশি দলটি এককভাবেও নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী সপ্তাহে আংশিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এনসিপির মূল্যায়ন অনুযায়ী, অন্তত চার-পাঁচটি আসনে তাদের অবস্থান অনুকূল, যেখানে জামায়াতও প্রার্থীদের সমর্থন দিতে পারে। এ বিষয়ে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা নির্বাচনী জোট নিয়ে ভাবছি না। বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও আমরা এককভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে তফসিল ঘোষণার পর।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সরাসরি রাজনীতিতে না থাকলেও এনসিপির কৌশলগত সিদ্ধান্তে তাঁদের প্রভাব রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা হলে আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ ও মাহফুজ আলম লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
রাজনৈতিক ময়দানে নতুন শক্তি হিসেবে এনসিপি এখন দ্বিমুখী কৌশলে চলছে—একদিকে বিএনপির সঙ্গে আসন ও মন্ত্রিসভা চুক্তির আলোচনা, অন্যদিকে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি। নিজেদের মধ্যপন্থী অবস্থান ধরে রেখে দলটি চায় জাতীয় রাজনীতিতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে।