আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দাদু’ সম্বোধন করে শৈশবের একটি স্মৃতিচিত্র তুলে ধরেন।
জাইমা রহমান লেখেন, পরিবারের একজন অভিভাবক হিসেবে খালেদা জিয়ার মমতা ও যত্ন তার জীবনের অন্যতম প্রিয় স্মৃতি। তিনি জানান, ছোটবেলায় স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে গোলকিপার হিসেবে জয়ী হয়ে মেডেল পাওয়ার পর সরাসরি দাদুর অফিসে গিয়ে নিজের অর্জনের গল্প শোনানোর মুহূর্তটি আজও তার মনে গেঁথে আছে। মনোযোগ দিয়ে সেই গল্প শোনা এবং গর্বের সঙ্গে অন্যদের কাছে তা তুলে ধরার মধ্য দিয়েই তিনি নেতৃত্বের প্রথম পাঠ পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মতো বিশাল দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও পরিবারের কাছে খালেদা জিয়া ছিলেন একজন স্নেহশীল অভিভাবক। দেশের মানুষের কাছে তিনি প্রধানমন্ত্রী হলেও পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন কেবল ‘দাদু’। সেই ছোট ছোট মুহূর্ত থেকেই তিনি শিখেছেন নম্রতা, আন্তরিকতা ও মন দিয়ে শোনার গুরুত্ব।
দীর্ঘ সতেরো বছর দেশের বাইরে কাটানোর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন জাইমা রহমান। তার ভাষায়, প্রবাসজীবন তাকে বাস্তববাদী ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন করলেও বাংলাদেশের সঙ্গে তার আত্মিক বন্ধন কখনো ছিন্ন হয়নি। সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও শিকড়ই মানুষের প্রকৃত পরিচয় গড়ে তোলে—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি সব সময় দেশকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
আইন পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শৃঙ্খলা শিখালেও মানুষের সঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা গড়ে ওঠে। ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা তাকে মানুষ হিসেবে নিজেকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।
পোস্টে নিজের পারিবারিক ইতিহাসের কথাও স্মরণ করেন জাইমা রহমান। তিনি জানান, দাদাকে কখনো দেখার সুযোগ না পেলেও তার সততা ও দেশপ্রেমের আদর্শ পরিবারে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে তিনি নীরবে, পর্দার আড়ালে থেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর মাতৃভূমিতে ফিরে আসা তার জন্য আবেগ ও দায়বদ্ধতার এক বিশেষ উপলক্ষ। দেশে ফিরে তিনি খালেদা জিয়ার পাশে থাকতে চান এবং একই সঙ্গে বাবাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে আগ্রহী। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের কল্যাণে নিজের সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
জনগণের প্রত্যাশা ও কৌতূহলের বিষয়টি উল্লেখ করে জাইমা রহমান লেখেন, সেই প্রত্যাশার ভার পরিবার হিসেবে তারা অনুভব করেন এবং সেটিকে দায়িত্ব হিসেবেই দেখেন। নিজের গল্পের মধ্য দিয়ে তিনি সবাইকে একসঙ্গে পথ চলার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৮ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরছেন। বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত একটি ফ্লাইটে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।