জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কোনো ধরনের আবেগনির্ভর বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে চরমপন্থা বা ফ্যাসিবাদ যেন পুনরায় সুযোগ না পায়—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান'-এ শহীদদের স্মরণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও অংশ নেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণে জনগণের রায়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত না হলে, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব ঘটনা প্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব বিষয়ে আরও দৃশ্যমান ও সাহসী ভূমিকা পালন করবে এবং গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো তাদের পাশে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে শহীদদের অবদান জাতির জন্য গর্বের। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই তারা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার মতে, এই আন্দোলন কেবল কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা সরকারের বিরুদ্ধে সামগ্রিক জনঅসন্তোষের প্রতিফলন ছিল।
তারেক রহমান জানান, ২০১৪ সালেই তিনি কোটাব্যবস্থার বিরোধিতা করেছিলেন। শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে, তাদের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। যেখানে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবে।
আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান এবং রুহুল কবির রিজভী।