জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ডিজিএফআই-এর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবের অভিযোগ তুলে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংস্কার ছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হলে তীব্র প্রতিক্রিয়া হবে এবং প্রয়োজনে ডিজিএফআই সদর দপ্তর পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হবে। একই সঙ্গে তিনি শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান না দেখানোর আহ্বান জানান এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর খামারবাড়ীতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জাতীয় যুব সম্মেলনে বক্তৃতা দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হলেও তাদের কার্যক্রমে কোনো স্বচ্ছতা বা জবাবদিহি নেই। বরং তারা মানুষের মাঝে ভয় সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমরা আয়নাঘর ভেঙে দিয়েছি। সামনে একই ধরনের চেষ্টা হলে ডিজিএফআই সদর দপ্তর পর্যন্ত ভেঙে দেব। বাংলাদেশে ডিজিএফআই থাকতে হলে অবশ্যই এর সংস্কার করতে হবে।”
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘোষিত হয়েছে। কিন্তু সংস্কার ছাড়া সেই নির্বাচন হলে শহীদদের আত্মত্যাগ ব্যর্থ হবে। যারা রক্ত দিয়েছে, আহত হয়েছে—তাদের মর্যাদা ফেরত দিতে হবে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “পুরোনো সংস্কৃতিতে, একই সংবিধানে, একই সিস্টেমে নির্বাচন হলে জুলাইয়ে এত মানুষ আহত-নিহত হওয়ার কারণ কী?”
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে ছিল হাসিনামাধ্যম, এখন কী মাধ্যম বললে চাকরি থাকবে না। অভ্যুত্থানের পর মিডিয়ার সম্পাদকদের বলেছিলাম, যা করেছেন, অন্তত ঘরে থাকুন। কিন্তু তাঁদের লজ্জা নেই, তাঁরা মানুষকে ধোঁকা দিয়ে চলেছেন।”