বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিজয়কে স্বাধীনতার সমতুল্য বললেও, এর পরবর্তী কার্যকলাপ নিয়ে হতাশ বলে মন্তব্য করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিজয়ীদের কার্যকলাপে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।"
কাদের সিদ্দিকী বলেন, তিনি আশা করেছিলেন এই বিজয় দীর্ঘস্থায়ী হবে, কিন্তু এক বছরের মাথায় এই বিজয়ের সুফল ম্লান হতে চলেছে। সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি আলোচনা সভা বানচাল হওয়ার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই সভায় তার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী, ড. কামাল হোসেন ও জেড আই খান পান্না উপস্থিত ছিলেন। কাদের সিদ্দিকী এ ঘটনাকে গণতন্ত্রের পরিপন্থী উল্লেখ করে বলেন, "একটি গণতান্ত্রিক দেশে সভা-সমাবেশ বানচাল করার কোনো আইনগত অধিকার নেই।" তিনি দায়ী ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. ইউনূসের কাছে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বর্তমান পরিস্থিতিকে আগের সরকারের চেয়েও বড় স্বৈরাচার বলে মন্তব্য করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, মানুষকে কথা বলতে ও মত প্রকাশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি দেশের সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ব্যর্থতাকে চিহ্নিত করেন। তার মতে, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমন একটি ভোট ব্যবস্থা চালু করা এখন সবচেয়ে জরুরি।
নিজের বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, "লতিফ সিদ্দিকীর জন্ম না হলে টাঙ্গাইলের রাজনীতির অনেক কিছুই হতো না।" তিনি দেশের সব মুক্তিযোদ্ধাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো দলের নন, তারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন।
সবশেষে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, যদি তারা দেশে অরাজকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, জনগণের দায়িত্ব নিয়েই তাদের ক্ষমতায় থাকতে হবে।