আসন্ন নির্বাচনকে সাধারণ ভোটের চেয়ে বড় এক অধিকার আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এটি দেশের মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই, তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নওগাঁয় নির্বাচনী এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমানের দাবি, অতীতে ভোট কারচুপির সঙ্গে জড়িত একটি পক্ষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তবে আরেকটি পক্ষ এখনো নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্রে সক্রিয়। গত দেড় দশকে এ দুই পক্ষ প্রকাশ্যে বিরোধিতা করলেও ভেতরে ভেতরে একসঙ্গে ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, একজন পালিয়েছে, অন্যজন এখনো চক্রান্তে ব্যস্ত।
ভোটের দিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই ফজরের পর নিজ নিজ এলাকা থেকে দলবদ্ধভাবে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। মুসল্লিরা সেখানে জামাতে নামাজ আদায় করবেন এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হবেন।
সকাল সাতটায় ভোট শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভোট প্রদান করতে হবে। দেরি করা যাবে না। কেন্দ্রের সামনে লাইন থাকলেও যদি অগ্রগতি না দেখা যায়, তবে ভেতরে অনিয়ম হচ্ছে কি না সে বিষয়ে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, সে সময় খালি ব্যালট বাক্স দেখিয়ে পরে ভর্তি বাক্স দেখানো হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
নওগাঁর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে সর্বাধিক ধান উৎপাদন হয় এ জেলায়। কৃষকদের সহায়তায় কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যাতে সহজে কৃষিঋণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি আমসহ বিভিন্ন ফসল সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন এবং রাজধানীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য রেললাইন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন যেমন সহজ হবে, তেমনি মানুষের যাতায়াতও দ্রুত হবে।
যুব সমাজকে খেলাধুলায় ফেরানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, উপযুক্ত অবকাঠামো তৈরি করা হবে যাতে তরুণরা খেলাধুলার মাধ্যমে গড়ে উঠতে পারে।
শেষে গণতন্ত্রের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ভোটাধিকারের জন্য বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে গণতন্ত্রের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।