মার্কিন সাময়িকী টাইম-কে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান শান্ত, সংযত কণ্ঠে কথা বলেন। তিনি জানান, কারাবন্দী অবস্থায় নির্যাতনের স্মৃতি আজও শরীরে বহন করছেন। শীত বাড়লে পিঠে ব্যথা বাড়ে—মেরুদণ্ডের জটিলতা এখনো তাঁকে কষ্ট দেয়। চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যাওয়া, পরে দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসনে রূপ নেওয়া—সবই সেই সময়ের পরিণতি।
২০০৭–০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ১৮ মাস কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কষ্ট তাঁকে মানুষের প্রতি দায়িত্বের কথা আরও মনে করিয়ে দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ফেরার পরপরই তারেক রহমান বড় রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হন। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে—এমন ইঙ্গিত মিলেছে বিভিন্ন জরিপে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনাও গভীরভাবে আলোচিত।
সাক্ষাৎকারে নিজেকে তিনি একধরনের সেতুবন্ধন হিসেবে তুলে ধরেন—একদিকে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা। তাঁর ভাষায়, পারিবারিক পরিচয়ের চেয়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের আস্থাই তাঁকে এই অবস্থানে এনেছে।
২০০১–০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময় দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতার প্রসঙ্গও প্রতিবেদনে এসেছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে বলেন, কোনো অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে—উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার দুর্বলতা, রিজার্ভের চাপ, আর বিপুল সংখ্যক তরুণের কর্মসংস্থানের চাহিদা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিকল্পনাভিত্তিক পদক্ষেপের কথা বলেছেন তারেক রহমান।
তিনি খাল পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, নগরে সবুজায়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, কারিগরি শিক্ষার সংস্কার এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের প্রস্তাব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, পরিকল্পনার আংশিক বাস্তবায়নও মানুষের আস্থা বাড়াবে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সংকট, যুক্তরাষ্ট্র–চীন প্রতিযোগিতা এবং ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ককে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং ভারতের সঙ্গে বাস্তববাদী সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেন তিনি।
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব হামলা, সংখ্যালঘু ও নারীদের ওপর সহিংসতা এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উত্থান নিয়ে উদ্বেগের কথাও উঠে আসে। তারেক রহমানের বক্তব্য, সবার আগে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নাগরিকরা নিরাপদ বোধ করেন।
ব্যক্তিজীবন প্রসঙ্গে টাইমের পর্যবেক্ষণ—তিনি স্বভাবত অন্তর্মুখী। লন্ডনে সময় কাটত হাঁটাহাঁটি আর ইতিহাসের বই পড়ে। প্রিয় চলচ্চিত্র ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’—যেটি তিনি একাধিকবার দেখেছেন। দেশে ফিরে কড়া নিরাপত্তা আর সীমিত চলাচলের কারণে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অভাব তিনি অনুভব করছেন বলে জানান।