কোয়ালকম সম্প্রতি তাদের পরিধানযোগ্য ডিভাইসগুলোর জন্য নতুন স্ন্যাপড্রাগন W5+ Gen 2 এবং W5 Gen 2 প্ল্যাটফর্ম উন্মোচন করেছে, যা স্মার্টওয়াচের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে।
নতুন এই চিপগুলো কেবল কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির উপর জোর দেয়নি, বরং ব্যবহারিক দিকগুলোতেও ব্যাপক উন্নতি ঘটিয়েছে। এই চিপের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো উন্নত ব্যাটারি লাইফ, শক্তিশালী সংযোগ এবং নির্ভুল অবস্থান শনাক্তকরণ।
মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. স্যাটেলাইট সংযোগ: এটি পরিধানযোগ্য ডিভাইসের জন্য একটি বিশাল অগ্রগতি। নতুন চিপগুলো স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুই-মুখী জরুরি বার্তা আদান-প্রদান সমর্থন করে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা যেখানে কোনো সেলুলার নেটওয়ার্ক নেই, এমন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও জরুরি পরিস্থিতিতে সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠাতে পারবে এবং তার উত্তরও পাবে।
২. উন্নত জিপিএস: "লোকেশন মেশিন লার্নিং ৩.০" নামক নতুন প্রযুক্তির কারণে জিপিএস এখন আগের প্রজন্মের চেয়ে ৫০% বেশি নির্ভুল। ঘনবসতিপূর্ণ শহর বা যেখানে সংকেত বাধাগ্রস্ত হয়, এমন জায়গায় এটি খুবই কার্যকর হবে।
৩. দক্ষতা ও আকার: নতুন চিপগুলো ৪ ন্যানোমিটার (nm) প্রযুক্তিতে তৈরি, যা আরও কম শক্তি খরচ করে এবং আকারে ছোট। এর ফলে ডিভাইস নির্মাতারা আরও পাতলা স্মার্টওয়াচ তৈরি করতে পারবে, যা ব্যাটারি লাইফও বাড়িয়ে দেবে।
৪. দুটি সংস্করণ:W5+ Gen 2 চিপটিতে একটি ডেডিকেটেড কম-শক্তির কো-প্রসেসর রয়েছে, যা ব্যাকগ্রাউন্ডের কাজগুলো সামলায়। অন্যদিকে, W5 Gen 2 চিপটি আরও সাধারণ ডিভাইসের জন্য তৈরি, যেখানে এই কো-প্রসেসরটি নেই। গুগলের নতুন পিক্সেল ওয়াচ ৪-এ প্রথম এই W5 Gen 2 চিপ ব্যবহার করা হয়েছে।
সংক্ষেপে বলা যায়, কোয়ালকমের এই নতুন চিপগুলো স্মার্টওয়াচকে আরও নিরাপদ এবং ব্যবহারিক করে তুলছে, যা ভবিষ্যতে পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।