বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, গত ১১ মাসে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বার, ক্লাব ও আড্ডাস্থল থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলার পাশাপাশি ওইসব স্থানে মাদক সরবরাহও করেছে তারা। চক্রটি শুধু মদ নয়, ইয়াবা, আইস, গাঁজা ও ফেনসিডিলের মতো মাদক হোম ডেলিভারির মাধ্যমে বিক্রি করছে। কেউ বাধা দিলে তাকে হুমকি, হেনস্তা এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
সূত্র মতে, ৫ আগস্টের পর ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোর মাদক বাজারের দখল নেয় এই সমন্বয়ক চক্র। এলাকাভিত্তিক মাদক কারবারিরা তাদের আর্থিক সুবিধা ও সেবনের সুযোগ দিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের মাধ্যমে রাজধানী ছাড়িয়ে দেশব্যাপী মাদক পরিবহনের জন্য গড়ে তোলা হয় নিরাপদ সিন্ডিকেট। বর্তমানে এদের মাধ্যমে শহর, উপজেলা, এমনকি গ্রামের পাড়া-মহল্লাতেও ছড়িয়ে পড়ছে মাদক।
বিশেষ উদ্বেগজনক তথ্য হলো, সমন্বয়ক পরিচয় ব্যবহার করে দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে প্রথমে আসক্ত করে ফেলা হচ্ছে, এরপর ক্রেতা ও ডেলিভারির অংশীদারে রূপান্তর করা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“মাদক কারবারিরা সবসময় প্রভাবশালীদের কাছে যেতে চায়। নতুন এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের একাংশ রাজনৈতিক পরিচয়ও ব্যবহার করছে। নিয়মিত তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং অভিযান চলছে।”
তবে বাস্তবতা হচ্ছে, দেশে যত মাদক প্রবেশ করছে, তার তুলনায় উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের হার খুবই কম। অনেক সময় বাহক বা সেবনকারীরা ধরা পড়লেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে।
এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও সমাজ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন,
“মাদক চক্রের সদস্যরা প্রতিনিয়ত কৌশল বদলাচ্ছে। তারা নতুন নতুন লোক নিয়োগ দিচ্ছে, নতুন পথ ব্যবহার করছে। শুধু গ্রেপ্তার নয়, মূল হোতাদের ধরতে না পারলে এই চক্র ভাঙা যাবে না।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমানে মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত সমন্বয়ক পরিচয়ধারীদের অনেকেই এককালীন, দৈনিক কিংবা মাসিক ভিত্তিতে কাজ করছে। তাদের কেউ কেউ রাতারাতি কোটিপতি হয়ে উঠেছে।
এভাবে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ের আড়ালে গড়ে ওঠা এই ভয়ঙ্কর মাদক সাম্রাজ্য এখন দেশের যুবসমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজ ও পরিবারেরও ভূমিকা এখন অত্যন্ত জরুরি—নইলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই অন্ধকার জগৎ থেকে রক্ষা পাবে না।