ইউপিডিএফ মুখপাত্র মাইকেল চাকমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন করে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে। চাঁদাবাজি, অস্ত্র বাণিজ্য ও হত্যার রাজনীতি ঘিরে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন গুম থাকার পর ফের প্রকাশ্যে এসে তিনি আবারও ইউপিডিএফকে সক্রিয় করেছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে আবারও সহিংসতা ও অস্থিরতার ছায়া ঘন হচ্ছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও সংঘাতের পেছনে উঠে এসেছে পরিচিত এক নাম— মাইকেল চাকমা, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর মুখপাত্র।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানায়, পার্বত্য চুক্তির বিরোধিতা করে ইউপিডিএফ শুরু থেকেই “পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন” স্লোগানে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এ সংগঠনের মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা থেকে আসা অর্থ এখন পাহাড়ে নতুন অস্ত্রের প্রধান জোগানদাতা। ভারতের মিজোরাম, ত্রিপুরা ও মিয়ানমার সীমান্তপথ হয়ে এসব অস্ত্র অবৈধভাবে প্রবেশ করছে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য।
ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রক্তাক্ত অধ্যায়: একসময় একই সংগঠনে ছিলেন শক্তিমান চাকমা ও মাইকেল চাকমা। সংগঠন নিয়ন্ত্রণের লড়াই থেকে শুরু হয় ভয়ংকর সংঘাত। ২০১৮ সালের মে মাসে শক্তিমান চাকমা ও তপন জ্যোতি (বর্মা) হত্যার ঘটনায় মাইকেল চাকমার নাম উঠে আসে। পরবর্তীতে এসব ঘটনায় নানিয়ারচর থানায় একাধিক মামলা রেকর্ড হয়।
গুম থেকে প্রত্যাবর্তন: ২০১৯ সালে মাইকেল চাকমা নিখোঁজ হন বলে পরিবার দাবি করে। তবে সূত্র জানায়, রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে ছিলেন। ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি ফের প্রকাশ্যে এসে ইউপিডিএফের নেতৃত্বে সক্রিয় হন। প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে পাহাড়ে নতুন করে বিভাজন ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
চাঁদার টাকায় অস্ত্র বাণিজ্য: গোয়েন্দা সূত্র বলছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও পর্যটকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে সংগৃহীত অর্থেই ইউপিডিএফ ভারী অস্ত্র ও গোলাবারুদ কিনছে। চাঁদা আদায়ের পদ্ধতিও অত্যন্ত গোপন — কখনো চিরকুটে নাম পাঠানো হয়, কখনো নির্দিষ্ট জায়গায় অর্থ ফেলে আসতে বলা হয়।
মামলা ও অপরাধের দীর্ঘ তালিকা: ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মাইকেল চাকমার নামে অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, অস্ত্র চোরাচালান, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলায় তিনি অন্যতম আসামি হিসেবে চিহ্নিত।
অশান্তির অবসান কোথায়: বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য শান্তিচুক্তির তিন দশক পরও যদি চাঁদাবাজি, অস্ত্র বাণিজ্য ও স্বজনহত্যার চক্র বন্ধ না হয়, তবে এটি শুধু পাহাড় নয়—পুরো দেশের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তারা মনে করেন, মাইকেল চাকমার মতো বিতর্কিত ও সশস্ত্র রাজনীতিতে জড়িত নেতাদের বিচারের আওতায় না আনলে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।