ভোলার চরফ্যাশনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথির একনায়কতান্ত্রিক শাসন ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যোগদানের পর থেকে তিনি একাধিক বিতর্কিত টেন্ডার এবং বরাদ্দ নিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। মিথি একইসঙ্গে চরফ্যাশন পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন।
এই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি পৌরসভার বিভিন্ন মার্কেট ও রাস্তা সংস্কারের নামে পুনরায় টেন্ডার দিয়ে জেলা পরিষদ থেকে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে লুটপাট করছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ইউএনওর স্বামী সিনিয়র সহকারী জজ হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।
একটি বেসরকারি অনুসন্ধান অনুযায়ী, চরফ্যাশনের ইউএনও মিথি বিভিন্ন প্রকল্পে অবৈধ বরাদ্দ ও টেন্ডারের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, পূর্ববাজার সোনালী পুকুরপাড়ে নির্মিত মার্কেটের ঘরের স্থানে কিচেন মার্কেট নির্মাণের নামে বরাদ্দ ধরা হয় ৪৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের ১৮ মে টেন্ডার প্রকাশ এবং ২ জুন তা খোলা হয়। তবে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, মার্কেটের ঘরগুলো আগেই নির্মিত এবং ভাড়া দিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।
চরফ্যাশনের ব্যবসায়ীরা জানান, “নতুনভাবে মার্কেট নির্মাণের জায়গা নেই, পূর্বের ঘরগুলোতে অনেক ভাড়াটে আছেন।” একইভাবে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের পেশকার বাড়ি জামে মসজিদের সড়কও আগেই নির্মিত। তারপরও চলতি বছরের ১৮ মে পুনরায় টেন্ডার দেওয়া হয়, বরাদ্দ প্রায় তিন লাখ টাকা।
অবৈধ বরাদ্দের তালিকায় আরও আছে—শিল্পকলা একাডেমির জন্য বাদ্যযন্ত্র ও সাউন্ড সিস্টেম ক্রয় বাবদ, চরফ্যাশন মডেল মসজিদের মাদুর ক্রয় বাবদ বরাদ্দ। তবে মসজিদের খতিব জানান, তাদের কোনো বরাদ্দ বা সহায়তা জেলা পরিষদ থেকে পাওয়া যায়নি।
বিএনপি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, ইউএনও মিথি ফ্যাসিস্ট আমলের চিহ্নিত দালালদের সঙ্গে মিলে কোটি কোটি টাকা হরিলুট করেছেন। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাংগঠনিক নেতা, জামায়াতে ইসলামীর জেলা নেতা সকলেই তার অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
চরফ্যাশন ইউএনও মিথি আমার দেশকে বলেন, জেলা পরিষদের বরাদ্দ বিষয়ে তার কোনো তথ্য নেই। পৌর মার্কেট ও রাস্তা নতুনভাবে নির্মাণ করা হবে, প্রয়োজন হলে অন্য জায়গা ব্যবহার করা হবে।
উল্লেখ্য, ইউএনও মিথির স্বামী, সিনিয়র সহকারী জজ রেজাউল করিম বাধন, বর্তমানে চরফ্যাশনে চৌকি আদালতে কর্মরত। তিনি ২০২৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত গোপালগঞ্জে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।