সোমবার (১৭ নভেম্বর) গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। জানা গেছে, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে সিআইডি ঢাকা ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব এবং নথি পর্যালোচনা করে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করেছিল এবং তা অবৈধভাবে অর্থে রূপান্তরিত করেছিল।
প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা (৫৭) এর বিরুদ্ধে ৬,৭৮,১৯,১৪,০১৪ টাকা মানিলন্ডারিং মামলাটি দায়ের করা হয়েছে (গুলশান থানার মামলা নং-৩০, ধারা ৪(২)(৪), মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, সংশোধনী-১৫)।
তদন্তে আরও জানা গেছে, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা, পিতা অমিয় কুমার আগরওয়ালা (ওম প্রকাশ), মাতা তােরা দেবী আগরওয়ালা, স্থায়ী ঠিকানা বাজারপাড়া, চুয়াডাঙ্গা সদর, চুয়াডাঙ্গা, এবং বর্তমান ঠিকানা হাউজ ১০ (ফ্লোর-২), রোড ২/৩, বনানী, ঢাকা-১২১৩, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের দীর্ঘদিনের মালিক। তিনি দেশে ও বিদেশে স্বর্ণ ও হীরার ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচার ও চোরাকারবারি চালাচ্ছিলেন।
তদন্তে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত এলসির মাধ্যমে বিদেশ থেকে মোট ৩৮,৪৭,৪৮,০১১.৫২ টাকা মূল্যের স্বর্ণবার, অলংকার, লুজ ডায়মন্ড ও অন্যান্য দ্রব্য বৈধভাবে আমদানি করেছে। একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়, বিনিময় বা পরিবর্তনের মাধ্যমে ৬,৭৮,১৯,১৪,০১৪ টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি এর উৎস বা সরবরাহকারী সংক্রান্তে বৈধ নথি প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়। ফলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব সম্পদ অবৈধ চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হয়েছে।
চোরাচালানের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ও অপরাধলব্ধ অর্থের রূপান্তর, হস্তান্তর বা ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ শেষে মানিলন্ডারিংয়ের প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হলে তদন্ত প্রতিবেদন অতিরিক্ত আইজিপি, সিআইডির কাছে দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মামলা দায়েরের অনুমোদন প্রাপ্ত হয়।
মামলাটি গুলশান থানায় দায়ের হওয়ায় তদন্ত সিআইডির তফসিলভুক্ত ইউনিট পরিচালনা করবে। প্রয়োজনীয় নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে নিবিড় তদন্ত করা হবে।
সিআইডি জানিয়েছে, দেশের অর্থপাচারে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠি আইনের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।