জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কোনো শর্ত জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (১৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে এবং এটি আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। এই প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দাতা সংস্থাগুলোর যেমন কিছু শর্ত ও প্রত্যাশা থাকে, তেমনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও নিজস্ব অগ্রাধিকার ও চাহিদা রয়েছে। সব শর্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, তাই জনস্বার্থের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই। আগের সরকারের সময় আইএমএফের সঙ্গে হওয়া কিছু চুক্তির শর্ত বর্তমান সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে বলেও জানান তিনি। সেক্ষেত্রে জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আইএমএফের চলমান কর্মসূচির মেয়াদ আগামী ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে জানান মন্ত্রী। এরপর নতুন কোনো কর্মসূচিতে যাওয়া হবে কি না, তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারণ করা হবে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে উপেক্ষা করে কোনো শর্ত মানা সম্ভব নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
এদিকে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে দাতা সংস্থাগুলো ইতিবাচকভাবে দেখছে বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সরকার পুরোপুরি সেই চাপ ভোক্তাদের ওপর দেয়নি। এতে সরকারি তহবিলে চাপ তৈরি হলেও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি শুধু জ্বালানির দামের ওপর নির্ভর করে না; এর পেছনে আরও নানা অর্থনৈতিক উপাদান কাজ করে।