‘মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫: নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ধাপে ধাপে উন্নত করার উদ্যোগ চলছে। এটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, তা রাতারাতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করা, অতীতের নেতিবাচক ধারা দূর করা এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এ পরিবর্তনের সূচনা জাতীয় সংসদ থেকেই করতে চায় সরকার।
সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, অতীতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। তাই রাজনৈতিক দল ও জাতি হিসেবে মানবাধিকার রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। বিষয়টি তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও ৩১ দফা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের পাশাপাশি ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘন শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করতে সময় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। কিছু ধারা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে, যা সংসদে বিল আকারে তোলা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে তিনি বলেন, অনেকগুলো বর্তমান সরকার সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে, তবে কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা দরকার। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ পাস, সংশোধন বা বাতিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থাপন না হলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, তবে পরে বিল আকারে আনা যাবে।
মন্ত্রী আরও জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই প্রারম্ভিক বক্তব্য দেওয়া হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ৭টি অধ্যাদেশও প্রক্রিয়াধীন।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-এর ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।এছাড়া অংশ নেন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান এমপি, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এমপি, অধ্যাপক রেহমান সোবহান, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও নারী নেত্রী খুশী কবিরসহ অনেকে।