সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চালু থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে কোনো চিকিৎসক নেই। ফলে হঠাৎ অসুস্থ হলে শিক্ষার্থীরা পড়ছেন বড় ধরনের ভোগান্তিতে। চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে অনেক সময় শিক্ষক ও দপ্তরের কর্মীদেরই প্রাথমিক সহায়তা দিতে হচ্ছে।
বিশেষ করে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালে একাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেও দ্রুত চিকিৎসা না পেয়ে বিড়ম্বনার মুখে পড়েছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ বা চিকিৎসা পেতে কেউ কেউ বাইরে ছুটতে বাধ্য হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) একাডেমিক ভবনের ৫২২ নম্বর কক্ষে এক পরীক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। হল থেকে জরুরি সেবার জন্য ফোন করা হলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের ব্যক্তিগত সহকারী এসে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের নির্দেশনায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি আরেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক তাকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থাকার কথা জানলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী জানে না সেটি কোথায় বা কীভাবে পাওয়া যাবে। ফলে সংকটের মুহূর্তে সবাই দিশেহারা হয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষার মাঝেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হলে ডিউটিরত শিক্ষকের কাছে ওষুধ চাইলে তাকে বাইরে গিয়ে কিনে আনতে বলা হয়। কোনো ধরনের তাৎক্ষণিক সহায়তাও পাননি তিনি।
ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানিয়া আহমেদ তন্বী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী কোনো চিকিৎসক না থাকায় জরুরি অবস্থায় শিক্ষক ও কর্মীরাই সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা দেন। রক্তচাপ মাপা কিংবা প্রাথমিক সেবায় স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান অনুষদের কর্মীরা সহযোগিতা করে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো সময় শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। কাছাকাছি কোনো হাসপাতাল না থাকা এবং অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা না থাকায় অন্তত একজন স্থায়ী চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা জরুরি।
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান জানান, চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে এবং প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। ততদিন পর্যন্ত গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।