সামাজিক মিডিয়ায় খবর এসেছে যে, প্রায় ১৭ বছর পর তিনি দেশলক্ষ্য করে রওনা হয়েছেন। দিনভর বিভিন্ন সূত্রে খবরে শোরগোল, যদিও বিএনপি বা কোনো দায়িত্বশীল সূত্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে সন্ধ্যায় তিনি যুক্তরাজ্য ছাড়িয়েছেন এবং কাতার এয়ারওয়েজে আসবেন; কিভাবে ও কখন ঢুকবেন তা নিশ্চিত নয়।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এভারকেয়ার হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতালে তিন স্তরের নিরাপত্তি ও বিজিবি মোতায়েন চলছে; সেনাবাহিনী হাসপাতলে হেলিকপ্টার অবতরণের মহড়া দেবে—এমন খবরে আলোচনা আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভিড় ও নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে সরাসরি হেলিকপ্টারে তুলে হাসপাতালে নেওয়া হতে পারে। বিমানবন্দরে অতিরিক্ত স্ক্রিনিং ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলেছেন তিনি দেশে ফিরছেন; তবে আগমনের সুনির্দিষ্ট সময় তারা শেয়ার করেননি, তাই গুঞ্জন ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে দলের পক্ষ থেকে দ্রুত স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া উচিত যাতে বিভ্রান্তি কেটে যায়। গতকাল (১ ডিসেম্বর) রাতে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তারেক শিগগিরই ফিরবেন; কিন্তু নির্দিষ্ট দিন জানাননি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বলেছেন—ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ফেরায় কোনো বাধা দেখছি না।
দলের আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, দেশে ফেরার বিষয়ে আইনগত কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখা যায়নি; তিনি ‘উপযুক্ত সময়ে’ ফিরবেন এবং ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দলের অভ্যন্তরীন সূত্র, সিনিয়র নেতাদের মন্তব্য ও গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে নীরব প্রস্তুতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এ সপ্তাহেই তিনি ফিরতে পারেন। কৌশলগত কারণে দিন-তারিখ প্রকাশ করা হয় না।
সরকার খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিআইপি) ঘোষণার মাধ্যমে তাকে বিশেষ সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) দিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদরোগ ও চোখের নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বুকে সংক্রমণ পাওয়া যায়; ভর্তি রাখা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তারেক রহমান সপরিবারে লন্ডন গিয়েছিলেন এবং সেখানেই ছিলেন। অতীতে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা ছিল; কিছু মামলায় সাজা হয়েছিল, তবে পরে আইনি প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে বেশিরভাগ মামলা থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন বলে জানানো হয়।
এদিকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যুক্তরাজ্যের চার সদস্যবিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল টিম এভারকেয়ার হাসপাতালে এসে স্থানীয় চিকিৎসক দলের সঙ্গে মিলে সিসিইউ পরিদর্শন, রোগব্যবস্থাপনা, অর্গান সাপোর্ট এবং পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করেছে। দলের নেতৃত্বে আছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. রিচার্ড বিল।