তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাব্বির প্রধান কর্মকেন্দ্র ছিল অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও টিকটকের মাধ্যমে সে মূলত ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরীদের সঙ্গে সুকৌশলে বন্ধুত্ব গড়ে তুলত। ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে সুযোগ বুঝে ডেকে নিত নির্জন স্থানে। সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করত, যা পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করার জন্য ব্যবহার করত।
রাব্বিকে গ্রেপ্তারের পর তার থেকে ভিক্টিম এর ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনে একাধিক কিশোরীর আপত্তিকর ভিডিও, মেসেজ ও ছবি রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান,
“রাব্বি অত্যন্ত পরিকল্পিত ও কৌশলী অপরাধী। তার মোবাইল থেকে উদ্ধার করা ভিডিওগুলোতে তার অপরাধের ভয়াবহতা স্পষ্ট। গ্রেপ্তারের খবর জানাজানি হওয়ার পর আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী থানায় এসে অভিযোগ দিয়েছেন। প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।”
এক ভুক্তভোগীর ভাষ্য—রাব্বি নিজেকে সবসময় শান্ত ও নিরীহ হিসেবে উপস্থাপন করত। তার এই মুখোশের আড়ালে এমন নৃশংস কাজ চলছিল—তা কেউ বুঝতেই পারেনি। সামাজিক লজ্জা ও ভয়ভীতির কারণে এতদিন তারা মুখ খুলতে পারেননি।
গ্রেপ্তারকৃত রাব্বির বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় ইতোমধ্যে ধর্ষণ, পর্নোগ্রাফি ও ধর্ষণচেষ্টাসহ মোট ৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। পূর্বে একই ধরণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাব্বির সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।