শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাহিদ হাসান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে নাহিদ অভিযোগ করেন, গত ২৫ আগস্ট শরণখোলা থেকে প্রায় ৬৫ বছর বয়সী এক অসুস্থ ও পরিচয়হীন বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে তিনি মিল্টন সমাদ্দারের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগের একটি পোস্ট দেওয়ার জেরে মিল্টন সমাদ্দার, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার দেবাশীষ এবং আরও কয়েকজন তাদের ওপর হামলা করেন।
নাহিদের অভিযোগ, একপর্যায়ে মিল্টন সমাদ্দার তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার সঙ্গে থাকা মো. ইলিয়াস হোসেনকেও মারধর করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে দায়মুক্তিমূলক বক্তব্যের একটি ভিডিও ধারণ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নাহিদ ও ইলিয়াস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।
নাহিদ বলেন, তাদের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা হয়েছে এবং তিনি এ ঘটনার আইনগত বিচার চান। প্রচলিত আইনে অপরাধের যথাযথ বিচার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে ২৭ আগস্ট নাহিদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগে বলেন, গত ২৩ আগস্ট শরণখোলার বকুলতলা এলাকায় এক অসুস্থ ও পরিচয়হীন বৃদ্ধাকে পড়ে থাকতে দেখে তিনি উদ্ধার করেন। পরে চিকিৎসা দেওয়ার পর বৃদ্ধার আশ্রয় ও সেবার জন্য মিল্টন সমাদ্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, শুরুতে বৃদ্ধাকে নিতে অনাগ্রহ দেখালেও পরে মাসিক ১৮ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে তাকে আশ্রয় দেওয়ার কথা জানান মিল্টন সমাদ্দার। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরই হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি নাহিদের।
এ বিষয়ে মিল্টন সমাদ্দারের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এর আগে ২৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ অভিযোগ করেন, ওই বৃদ্ধাকে আশ্রয়ের জন্য নিয়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে তাদের মারধর করা হয়। একই সঙ্গে টাকা চাওয়া হয়নি—এমন বক্তব্যও জোর করে ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।