ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ঘণ্টা বাজছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে। শেষ মুহূর্তের প্রচারে সরব দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণ—হল, মেস, একাডেমিক ভবন থেকে শুরু করে আড্ডাস্থল পর্যন্ত মুখর নির্বাচনী উচ্ছ্বাসে।
রাকসুর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রচার চালানোর সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা। তাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের জোর প্রচারণা। প্রার্থীরা দলবেঁধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন, হাতে তুলে দিচ্ছেন লিফলেট ও হ্যান্ডবিল। সোমবার নবীনবরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের সামনেও ছিল প্রার্থীদের প্রচারের কেন্দ্রস্থল।
ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর বলেন, “প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা আমাদের ব্যাপকভাবে গ্রহণ করছেন। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আমরা আন্দোলন করেছিলাম, তাই তারা আমাদের পাশে।”
অন্যদিকে, সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজা জানান, “শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো শুনছি, বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়েই প্রচার চালাচ্ছি।”
গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদের ভিপি প্রার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, “শিক্ষার্থীরা আমাদের সংগ্রাম চিনছেন, তাই তারা আমাদের লিফলেট সাদরে গ্রহণ করছেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া সিদ্দিকী রিমি বলেন, “রাকসু নির্বাচন আমাদের সময়েই হচ্ছে—এটা ভাগ্যের বিষয়। আকাশকুসুম প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রার্থীরা শিক্ষার্থীবান্ধব দিকগুলো নিয়ে ভাবছেন, এটা ইতিবাচক।”
রাবির প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ. নজরুল ইসলাম জানান, “দুই হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে। আচরণবিধি ভঙ্গ হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, “নির্বাচনী পরিবেশ উৎসবমুখর, শিক্ষার্থীরা বন্ধুত্বপূর্ণভাবে প্রচার চালাচ্ছে, যা প্রশংসনীয়।”
এদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও চাকসু নির্বাচনকে ঘিরে তুমুল প্রচার চলছে। বুধবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ছিল আনুষ্ঠানিক প্রচারের সময়সীমা। শেষ মুহূর্তেও ভোটারদের মন জয় করতে ব্যস্ত প্রার্থীরা।
চবি ক্যাম্পাসে দেখা গেছে অভিনব প্রচারণা—কেউ স্কেটিং করে লিফলেট বিলাচ্ছেন, কেউ আবার চার্লি চ্যাপলিন সেজে প্রচার চালাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেড়েছে, আর নির্বাচনী পরিবেশে যোগ হয়েছে আনন্দের নতুন মাত্রা।
ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “শেষ দিন পর্যন্ত প্রচার চালাচ্ছি, শিক্ষার্থীদের সাড়া দারুণ।”
অন্যদিকে, ছাত্রশিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী ইব্রাহীম হোসেন বলেন, “প্রচারকেন্দ্রিক আলোচনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে আমরা অভিভূত।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহসান হাবীব বলেন, “যেখানে নিজে যাচ্ছি না, সেখানে বন্ধুরা প্রচার চালাচ্ছে। সামগ্রিক পরিবেশ ভালো।”
‘বৈচিত্র্য ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ধ্রুব বড়ুয়া বলেন, “দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল ব্যালটের প্রস্তাব দিয়েছি, যাতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।”
চবি প্রশাসন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভোটদানের জন্য চাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় আলাদা কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. একেএম আরিফুল হক সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়ায় দুজন কমিশনার সরাসরি তত্ত্বাবধান করবেন।
দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন এখন শিক্ষার্থীদের কাছে উৎসব ও গণতান্ত্রিক চর্চার এক নতুন অধ্যায় হয়ে উঠেছে।