প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধার কার্যক্রম, চিকিৎসাসেবা এবং দুর্গত মানুষের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, সচিব এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন।
উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোর সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতকে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শনিবার চট্টগ্রাম সফর করবেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দুর্যোগ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যাতে কোনো অপরাধী চক্র চুরি, ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।