পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন পিয়াস। ছোটবেলা থেকেই শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের কারণে এলাকায় তার ভালো পরিচিতি ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন, সহজ-সরল আচরণের জন্য স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছেও ছিলেন আপনজনের মতো।
সেনাবাহিনীতে চাকরির কারণে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে থাকতেন পিয়াস। দেশের দায়িত্ব পালনের মধ্যেই তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও নিজ এলাকায় নেমে এসেছে শোক।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে পিয়াসের ঘরে আসে নতুন অতিথি। সন্তান জন্মের আনন্দ কাটতে না কাটতেই পরিবারকে শুনতে হয় তার মৃত্যুর খবর। বাবার স্নেহ পাওয়ার সুযোগ হওয়ার আগেই পিতৃহারা হলো শিশুটি।
পিয়াসের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর তার বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে ছুটে আসেন। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা।
স্থানীয়রা জানান, পিয়াসের মতো একজন শান্ত ও ভালো মনের তরুণের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। তার ওপর মৃত্যুর সময় ঘরে থাকা সদ্যজাত সন্তানকে রেখে যাওয়ার বিষয়টি পরিবারের শোককে আরও ভারী করে তুলেছে।
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টের। সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।