গাজীপুরের ছোট্ট মেয়ে সায়মা আক্তার বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখত। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া সায়মা বলত, “আমি বড় হয়ে ডাক্তার হবো”—এই গর্বিত উচ্চারণে আশাবাদী হয়ে উঠত পরিবার, আত্মীয়স্বজন, এমনকি প্রতিবেশীরাও। তাই এলাকাবাসী আদর করে ডাকত ‘ডাক্তার সায়মা’।
কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে সায়মা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। মাত্র ৯ বছর বয়সেই পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় সম্ভাবনাময় এক জীবন।
সায়মার বাবা শাহ আলম রাজধানীর উত্তরায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। তিনি প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির কর্মী। মা মিনারা বেগম এবং সদ্য এসএসসি পাস করা বড় ভাই সাব্বির হোসেন এখনো শোকে স্তব্ধ। পুরো পরিবার যেন বাকরুদ্ধ।
মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের বাড়িতে কবরস্থ করা হয় সায়মাকে। জানাজা শেষে, সকাল ১১টায়, গ্রামের মাটিতে শায়িত হয় সে। বাবার চোখের অশ্রু, ভাইয়ের বুকফাটা কান্না আর মায়ের নিথর দৃষ্টিতে নীরব হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। মা মিনারা বেগম বললেন, “সকালবেলা শুধু বলেছিল, ‘মা, স্কুলে গেলাম, টা টা।’ এরপর আর কখনও ফিরে আসেনি।”
ভাই সাব্বির জানান, সায়মাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। রাত আটটার দিকে সিএমএইচ হাসপাতালে গিয়ে তার কানের দুল আর চুলের বেনি দেখে মরদেহ শনাক্ত করতে হয়।
বাবা শাহ আলম কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “সবার সামনে গর্ব করে বলত, আমি ডাক্তার হবো। তাই সবাই ডাকত ডাক্তার সায়মা। সেই ডাক্তার এখন কবরের নিচে। স্বপ্নটাও সেখানেই চাপা পড়ে গেল।”
উত্তরার মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে এখন পর্যন্ত ৩১ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। সংখ্যাগুলো কাগজে-কলমে লেখা থাকলেও, সায়মার মতো অনেক স্বপ্নের মৃত্যু এ পরিসংখ্যানে আসে না। একটি শিশুর অসমাপ্ত জীবন, একটি পরিবারের শোক আর একটি গ্রামের নিস্তব্ধতা মিলে এই ঘটনা হয়ে থাকবে জাতির এক নির্মম ইতিহাস