মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং মামলার রাজসাক্ষী সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান খান যুক্তিতর্কে বলেন, “জুলাই গণহত্যা ছিল সংগঠিত রাজনৈতিক সহিংসতার এক নির্মম অধ্যায়। শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও তার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এসব অপরাধ সংঘটিত হয়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরাজিত সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এখনো বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনাসহ আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ অপমানিত হবে।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “প্রসিকিউশন দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করেছে যে অপরাধীরা পরিকল্পিতভাবে এই গণহত্যা সংঘটিত করেছে। উপস্থাপিত কল রেকর্ড, নথিপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণগুলো আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করা হয়েছে—যা যেকোনো আদালতে অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছি।”
অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তি দেন, শেখ হাসিনা ইচ্ছাকৃতভাবে পালিয়ে যাননি; বরং রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।
এর আগে বুধবার আসামিপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে, পরদিন প্রসিকিউশন যুক্তিখণ্ডন উপস্থাপন করে। বৃহস্পতিবার ছিল মামলার চূড়ান্ত শুনানির শেষ দিন।
উল্লেখ্য, মামলাটিতে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তি, চিকিৎসকসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে জুলাই গণহত্যা, গুম-খুন, এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র—যা ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।