অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার ১৮ থানার একাধিক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর আগে কুমিল্লার অন্য থানা বা পুলিশ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে জেলার বাইরে না গিয়ে তাদের আবারও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পদায়ন করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, দাউদকান্দি থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম এর আগে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রকিবুল ইসলাম বর্তমানে সদর দক্ষিণ থানার ওসি। বরুড়া থানার ওসি নাজমুল হাসানও এর আগে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় দায়িত্বে ছিলেন।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি শাহিনুর আলম আগে মনোহরগঞ্জ থানার ওসি ছিলেন। মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মাকসুদুর রহমান এর আগে লাকসাম থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তিতাস থানার ওসি মমিরুল ইসলাম এর আগে বরুড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও ছত্রিখিল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ছিলেন। চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আরিফুল ইসলাম এর আগে তিতাস থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি ফারুক হোসেন আগে লাকসাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিলেন। হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া ব্রাহ্মণপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার এর আগে কুমিল্লা আদালতে কোর্ট পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন। লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থানার ইনচার্জ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
একই জেলার বিভিন্ন থানায় কর্মকর্তাদের এভাবে বারবার পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এসব পদায়ন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়ে থাকে।
কুমিল্লার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ থানায় ওসি পদে পদায়নকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, জেলার অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পেতে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, শুধু ওসি পদায়ন নয়, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কুমিল্লায় বদলি হয়ে আসার ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও চৌদ্দগ্রাম থানাকে ঘিরে কর্মকর্তাদের আগ্রহ বেশি।
সীমান্তঘেঁষা এসব এলাকায় মাদক ও চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি থাকায় থানাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। ফলে এসব এলাকায় দায়িত্ব পেতে কর্মকর্তাদের মধ্যে আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা বেশি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়নে স্বচ্ছতার ঘাটতি থাকলে অপরাধ দমন কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রশাসনিক দুর্বলতা তৈরি হলে তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
তাদের দাবি, পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়নে পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: আমার দেশ।