মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) সেমিনার কক্ষে আয়োজিত ‘এভিয়েশন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। পিআইবি ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।
শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে আফরোজা খানম রিতা বলেন, আগের সরকারের সময়ে প্রকল্পটির কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় ছিল। পরবর্তী সময়েও কাজ আশানুরূপভাবে এগোয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর টার্মিনালের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর চেষ্টা চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বর এটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, লালমনিরহাটে একটি এমআরও কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বের দুই বড় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং ও এয়ারবাসের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এমআরও কেন্দ্র চালু হলে দেশে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে এ খাতে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি নতুন সক্ষমতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
দেশে দক্ষ পাইলট তৈরির জন্য ফ্লাইট একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পাইলট প্রশিক্ষণের পেছনে একজন শিক্ষার্থীর যেন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না হয়, সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একাডেমিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সেখানে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের ব্যয় সরকার বহন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমান ও পর্যটন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের সংকট দেখতে হয়েছে উল্লেখ করে আফরোজা খানম রিতা বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অর্থ ও তহবিলের ঘাটতি রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিমান ও পর্যটন খাতের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান করে এ দুই খাতকে এগিয়ে নেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, সাংবাদিকতা শুধু জীবিকা বা পেশা নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এভিয়েশন সাংবাদিকতাকে শুধু বিমান চলাচল ও পর্যটনের খবরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের ভাবমূর্তির বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। তবে দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহির মানসিকতা নিজেদের মধ্য থেকেই তৈরি করতে হবে। সাংবাদিকরা রাষ্ট্র ও ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন করার পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
গণমাধ্যমকে জনগণের শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম উল্লেখ করে ফারুক ওয়াসিফ বলেন, সংবাদমাধ্যমের তথ্য মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই ভুল, অসত্য বা দায়িত্বহীন তথ্য প্রকাশের প্রভাব একজন পাঠকের বাইরেও তার পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর পড়তে পারে।
তিনি সাংবাদিকদের মাঠপর্যায়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য যাচাই এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানান। ‘শিকারী সাংবাদিকতা’ ও ‘ল্যাপটপ সাংবাদিকতা’ থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবতা যাচাই করে সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ফারুক ওয়াসিফ আরও বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে। তাই সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের কাজ করা উচিত।