শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এ সময়সীমা ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এতে চট্টগ্রাম সর্বদলীয় শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এবং বন্দরের পাঁচটি সক্রিয় শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সংহতি জানান।
শ্রমিক নেতারা বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানির বড় অংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে হয়। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার আগে এর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনা করা দরকার।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বের অন্য কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর শতভাগ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার নজির আছে কি না, সরকারকে তা খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। তাই এ বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
সমাবেশে বক্তারা ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দর অচল হওয়ার ঘটনা ও পরবর্তী রাজনৈতিক সংকটের কথাও তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, বন্দরকে ঘিরে দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতে বন্দরকে কেন্দ্র করে আবার কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হোক, তা তারা চান না।
ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের এক নেতা বলেন, তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান। চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এনসিটি পরিচালনা করলে রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থও রক্ষা করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
সভা থেকে ৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, ৫ অক্টোবর বন্দর কাস্টমস মোড়ে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি এবং ৭ অক্টোবর ১২ নম্বর রোড থেকে ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার পর্যন্ত মশাল মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।
শ্রমিক নেতারা জানান, এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবি টার্মিনাল দেশীয় ব্যবস্থাপনায় রাখার পাশাপাশি আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। পাঁচ দিনের মধ্যে সরকার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ধারাবাহিক আন্দোলন চালানোর কথাও জানান তারা।