সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত গ্রামগুলো হলো খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের পানখালী, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ যেমন সাফল্য দেখিয়েছে, তেমনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নেও সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে। এসডিজির মূল নীতিগুলোর একটি হলো কাউকে উন্নয়নের বাইরে না রাখা। সরকারের ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ ভাবনার সঙ্গেও এ লক্ষ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলটির রাজনীতি জনগণ ও জনকল্যাণকে কেন্দ্র করে পরিচালিত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবিত ৩১ দফার সঙ্গে এমডিজি ও এসডিজির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মৌলিক মিল রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত গ্রামগুলোতে একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচি একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রামভিত্তিক পর্যটন, ব্লু-এমপ্লয়মেন্ট এবং ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্টের মতো উদ্যোগ থাকবে।
এর পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, খাল পুনঃখনন ও ইকোট্যুরিজমের মতো কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্পের পরীক্ষামূলক পর্যায়ে পাওয়া ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ মডেল ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তার আশা, ভবিষ্যতে এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি স্বীকৃত উন্নয়ন মডেল হিসেবে পরিচিতি পাবে।
‘এসডিজি ভিলেজ’ বলতে এমন একটি গ্রামকে বোঝানো হচ্ছে, যেখানে দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার মতো বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামকে টেকসই ও স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।