সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন Beximco Aviation এখন কার্যত বশির সাহেবের দখলে। জানা গেছে, আগস্ট মাসে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নেওয়া দুইটি হেলিকপ্টারের (রেজিস্ট্রেশন নম্বর S2-AFR ও S2-SFR) পাইলটদের নিয়েই তিনি নতুন কোম্পানি Akij-Bashir Aviation গঠন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভেতরকার যোগাযোগ ব্যবহার করে Beximco Aviation বন্ধ হওয়ার পর মাত্র ৩৫ লাখ টাকায় কয়েক কোটি টাকার সম্পদ — হ্যাংগার, অফিস সরঞ্জাম, কম্পিউটার ও গাড়ি — নিজের নামে কিনে নিয়েছেন।
এছাড়া CAAB-এর (সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ) কাছে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে ফ্লাইট অনুমোদন নেওয়া, অন্য কোম্পানির নামে জাল চুক্তি উপস্থাপন, এমনকি South Asian Airlines-এর AOC (উড্ডয়ন লাইসেন্স) ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে। সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইনসের কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং পাওনা টাকা আটকে রেখে নিজেদের সুবিধা আদায়ের ঘটনাও প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলাদেশ বিমানের রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত স্থগিত ক্রুদেরও ফের উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা বশির এবং বিমান সচিব মিলে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। আওয়ামীপন্থী ক্রুদের মধ্যে নায়ক ফেরদৌসের স্ত্রী তানিয়া সহ কয়েকজন আবারও ফ্লাইট অপারেশনে ফিরেছেন। এতে প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে—নিরপেক্ষতা কোথায়?
সবশেষে, গুলশানের একটি ১১০০ কোটি টাকার বহুতল ভবন মাত্র ২০০ কোটিতে কেনার গোপন তৎপরতায় নাম এসেছে বশির সাহেবের। জানা গেছে, ভবনটির আগের মালিক ছিলেন এক আওয়ামী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী যিনি বর্তমানে বিদেশে পলাতক। এই সম্পত্তি কেনাবেচার বিষয়টি ঘিরে রাজধানীর প্রপার্টি বাজারেও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
গুলশান প্রপার্টি বাজারে অস্থিরতা ও কালো টাকার প্রভাবে রয়েছে বাণিজ্য উপদেষ্টার যোগসাজশ।
রাজধানীর গুলশান এভিনিউর খন্দকার টাওয়ার বিক্রির খবর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ১৮ তলা এই বাণিজ্যিক ভবনের দাম চাওয়া হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। মালিক খন্দকার বদরুল হাসান বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করলেও বিভিন্ন প্রপার্টি ওয়েবসাইটে ভবনটি বিক্রির বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়েছে।
আবাসন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত সরকারের আমলে অনৈতিক উপায়ে সম্পদ অর্জনকারীরা এখন অভিজাত এলাকায় প্রপার্টি কিনে নিজেদের টাকাকে বৈধ করছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ এখনো বহাল থাকায় প্রপার্টি বাজারে কৃত্রিমভাবে দাম বেড়ে যাচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতিমালা অনুযায়ী, ঢাকার গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকায় প্রতি বর্গমিটারে নির্দিষ্ট হারে কর পরিশোধ করে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা যায়। এর ফলে কেউ অবৈধ আয়ও সহজে বৈধ আকারে দেখাতে পারছে। এই সুযোগই বাজারকে চাঙ্গা রেখেছে বলে মনে করছেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা।
রিহ্যাব সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “গুলশানের সম্পত্তির দাম অনেকাংশে কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়েছে। সীমিত জায়গা, উচ্চবিত্তদের চাহিদা এবং অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ একসঙ্গে কাজ করছে।” অন্যদিকে শেলটেকের প্রধান নির্বাহী পরিচালক শরীফ হোসেন ভূঁইয়ার মতে, অভিজাত এলাকার প্রতি মানুষের আকর্ষণ এবং পরিকল্পিত আবাসনের কারণে দাম কিছুটা বেশি হলেও সামগ্রিকভাবে বাজারে ‘ব্যালান্স’ বজায় রয়েছে।